এম বি বি এস: মা বাবার বেকার সন্তান!

Post Date : 2017-04-28 | Category : medical news

Shayeekh Mahbub Setu

আমার খুব অদ্ভুত অনুভূতি হয় যখন একই রুমে পাশের চেয়ারে বসা চিকিৎসা সহকারীকে (SACMO) 'ডাক্তার' সম্বোধন করে এলাকাবাসী চিকিৎসা নিতে আসে। অনেক ক্ষেত্রে মেডিকেল অফিসারকে চিনতেই পারে না। কারণ মেডিকেল অফিসারের চেয়ার বা টেবিলের কোন বিশেষত্ব নেই। তার জন্য ব্যক্তিগত সহকারী দূরে থাক পৃথক কোন কক্ষই বরাদ্দ নেই। চিকিৎসা সহকারীও নিজেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসক মনে করে মেডিকেল অফিসারের সামনেই বিশেষজ্ঞ লেভেলের চিকিৎসা দেয়।

কিছু করার নেই এলাকার লোকরা যাদেরকে বেশি কাছে পাবে তাদেরকেই চিনবে। উপজেলা লেভেলে বেশিরভাগ মেডিকেল অফিসারই বয়সে নবীন। শিক্ষাগত যোগ্যতা আর মেধায় এগিয়ে থাকলেও বয়স আর চাপা-চাতুর্যে নিশ্চিতভাবে তারা চিকিৎসা সহকারীদের থেকে পিছিয়ে। মেডিকেল অফিসারদের পোস্টিংও ঘন ঘন পরিবর্তন হয়, কোথাও তারা থিতু হতে হতেই ক্যারিয়ারের কারণে অন্যত্র চলে যান। তাই এলাকাবাসী তাদের চেনেনা, সম্মানও দেয় না।

গলদটা আমাদের সিস্টেমের। এমবিবিএস না থেকে সরাসরি আট বছরের এমডি কোর্স হতে পারতো। গ্রাজুয়েশন পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করে ডাক্তাররা চাকুরিতে ঢুকতো। নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই আলাদা হওয়া উচিৎ। আলাদা পরীক্ষা আলাদা বেতন কাঠামো আলাদা এডমিনিস্ট্রেশন। এসব হলে একবার চাকুরিতে ঢুকে আবার সব ছেড়ে ছুড়ে ডেপুটেশন নিয়ে দৌঁড়া দৌঁড়ি করতে হতো না।

দেশে আউটডোর পেশেন্ট রেফারেল সিস্টেম সক্রিয় নয়। মেডিকেল এসিস্টেন্ট পারলে বিশেষজ্ঞ লেভেলের প্র‍্যাক্টিস করে। এমবিবিএসরা পেশেন্ট না দেখে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের পড়া পড়ে আর বিশেষজ্ঞগণ জিপি প্র‍্যাক্টিস করেন!

বিশাল সংখ্যক এমবিবিএস চিকিৎসক নিছক বেকার হয়ে পড়ে আছেন শাহবাগের আশেপাশে। এমবিবিএসদের জিপি প্র‍্যাক্টিস দখল করে আছে স্যাকমোরা, অপারেশন এসিস্ট দখলে নিয়েছে ওয়ার্ডবয়রা। এমনকি ডিউটি ডক্টরের কাজও দখল হয়ে যাচ্ছে!

সারাজীবন অসাধারণ একাডেমিক পারফরমেন্সের পরও প্রফেশনাল লাইফের এই করুণ অবস্থা সত্যিই আতঙ্কজনক। ভাল একাডেমিক পারফরমেন্স হলে পারিবারিক অবস্থা ভাল না থাকলে দয়া করে কেউ এমবিবিএস পড়তে আসবেন না। অষ্টম শ্রেণী পাশ করে ওয়ার্ড বয় হোন অথবা মেট্রিক সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে স্যাকমো হোন। নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ুন।